Skip to Content


৪৮-৭২ ঘন্টায় ক্যাশ অন ডেলিভারি। ০১৬১৫-৮৩১৬৩৮

কুরআনের বিশেষ পবিত্র সাতান্নটি নাম

কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদের বিবিধ প্রকৃতি ও পরিচিতি তুলে ধরেছেন। হাদিসে হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিধায় অভিহিত করেছেন। এসব বর্ণনার ভিত্তিতে আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ূতি রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ‘আল ইতকান ফি উলূমিল কুরআন’ গ্রন্থে কুরআনের ৫৫টি নাম উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য তাফসিরকার-উসূলবিদ কুরআনের আরো কিছু নাম শনাক্ত করেছেন। নিম্নে আল-কুরআনের বিশেষ কিছু নাম প্রদত্ত হলো-

(০১) আল কিতাব: আল-কিতাব মানে স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রন্থ। আল্লাহ তাআলা আর কুরআনকে আল-কিতাব নামে অভিহিত করেছেন, কারণ কুরআন মাজিদ দিক বিবেচনাতেই একখানি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। আল্লাহ তাআলা বলেন,

وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ

অর্থাৎ নিশ্চয়ই আপনার প্রতি আমি আল-কিতাব নাযিল করেছি। (সুরা নাহল: ৮৯]

(০২) আল ফুরকান: আল-ফুরকান মানে হক ও বাতিল, সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায়, সুবিচার ও অবিচার, সভ্যতা ও অসভ্যতা, ঈমান ও কুফর ইত্যাদির মধ্যে পার্থক্যকারী। আল্লাহ তাআলা কুরআনকে ফুরকান নামে অভিহিত করেছেন কারণ এ মহাগ্রন্থ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে, ন্যায় ও অন্যায়ের মধ্যে সুস্পষ্টভাবে পার্থক্য নির্দেশ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

تَبَارَكَ الَّذِي نَزَّلَ الْفُرْقَانَ عَلَى عَبْدِهِ لِيَكُونَ لِلْعَالَمِينَ نَذِيرًا

অর্থাৎ কত মহান তিনি, যিনি তাঁর বান্দার প্রতি ‘আল ফুরকান বা সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী নাযিল করেছেন। (সুরা ফুরকান : ১]।

(০৩) আজ জিকর: আজ জিকর মানে স্মারক ও উপদেশ, স্মরণ। আল্লাহ তাআলার নিআমত ও রহমতের কথা স্মরণ করা, তিনি যা করতে বলেছেন তা মনে রাখা এবং মেনে চলা। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আজ জিকর নামে অভিহিত করেছেন, কারণ কুরআন কারিম আল্লাহ তাআলার নিআমতের স্মারক। এবং এর মধ্যে তার উপদেশ বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন,

إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ

অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি আয-যিকর নাযিল করেছি। (সুরা হিজর : ৯]।

(০৪) আল-মাওয়িজা : আল-মাওয়িজা মানে উত্তম উপদেশ বা সদুপদেশ। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-মাওয়িজা নামে অভিহিত করেছেন। কারণ আল-কুরআনে বিশ্বমানবের জন্য আল্লাহ তাআলা উত্তম ও কল্যাণকর উপদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ جَاءَتْكُمْ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ

অর্থাৎ হে মানুষ! তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য ‘মাওয়িযা’ বা সদুপদেশ এসেছে। [সুরা ইউনূস : ৫৭]।

(০৫) আল-হুকুম : আল-হুকুম মানে আদেশ, বিধান, সিদ্ধান্ত বা রায়। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-হুকুম নামে অভিহিত করেছেন। কারণ কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা সত্য ও সুন্দরের পক্ষে তার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। মানুষের কর্মফলের ভিত্তিতে তাদের জন্য রায় ঘোষণা করেছেন। তাদের জন্য অবশ্য পালনীয় বিভিন্ন বিধান বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَكَذَلِكَ أَنْزَلْنَاهُ حُكْمًا عَرَبِيًّا

অর্থাৎ এভাবে তাঁর কাছে আমি আরবি ভাষায় হুকুম নাজিল করেছি। (সুরা রাদ : ৩৭)

(০৬) আল-হিকমা : আল-হিকমা অর্থ জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা, বিজ্ঞানপূর্ণ আদর্শ বা বিষয়। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-হিকমা নামে অভিহিত করেছেন। কারণ কুরআন মাজিদ সব জ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রজ্ঞা ও হিকমতের মূল। আল্লাহ তাআলা বলেন,

ذَلِكَ مِمَّا أَوْحَى إِلَيْكَ رَبُّكَ مِنَ الْحِكْمَةِ

অর্থাৎ তোমার প্রতিপালক ওহি দ্বারা তোমাকে যে হিকমত বা জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেছেন, এগুলো তার অন্তর্ভুক্ত। (সুরা বনী ইসরাঈল : ৩৯]

(০৭) আশ-শিফা : আশ-শিফা হলো নিরাময় ও আরোগ্য। আল-কুরআনের নির্দেশনা মেনে চললে মানুষ অন্তরের ব্যাধিসমূহ, পাপপ্রবণতা এবং পাশবিক ত্রুটি থেকে মুক্ত হয়। এর দ্বারা কুফর, শিরক, নিফাক, ফাসাদ ইত্যাদি মানসিক ব্যাধির নিরাময় ও আরোগ্য ঘটে বলে আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আশ-শিফা নামে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, কুরআন তোমাদের অন্তরে যা আছে তার শিফা। (সুরা ইউনূস: ৫৭] ।

(০৮) আল-হুদা : হুদা হলো হিদায়াত বা সঠিক পথের নির্দেশনা, যা মানুষকে সহজ, সরল, সুদৃঢ়, সুন্দর ও কল্যাণের পথ নির্দেশ করে। আল-কুরআন মানুষকে চিরন্তন মুক্তি ও শাশ্বত কল্যাণের পথে পরিচালনা করে বলে আল্লাহ তাআলা এ মহাগ্রন্থকে আল-হুদা নামে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, কুরআন হলো হুদা। (সুরা ইউনুস : ৫৭]

(০৯) আত-তানযিল : যা কিছু প্রত্যাদিষ্ট বা অবতারিত তাকে আত-তানযিল বলে। আল-কুরআন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর আত-তানযিল বা প্রত্যাদিষ্ট হয়েছে। এ কারণে তিনি আল-কুরআনকে আত তানযিল নামে অভিহিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই বিশ্বজাহানের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে কুরআন হলো তানযিল বা প্রত্যাদেশ। (সুরা শুআরা : ১৯২]।

(১০) আর-রাহমাত : আর-রাহমাত বলতে বুঝায় অনুগ্রহ, দয়া ও করুণাকে । আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আর-রাহমাত নামে অভিহিত করেছেন। আক্ষরিক অর্থেই আল-কুরআন পৃথিবীর সব মানুষের জন্য আল্লাহ তাআলার অনন্য। রাহমাতের দৃষ্টান্ত, অপরিসীম দয়ার প্রকাশ । আল্লাহ তাআলা বলেছেন, কুরআন মুমিনদের জন্য রহমত। [সুরা ইউনূস : ৫৭]

(১১) আর-রুহ : আর-রুহ বলতে বুঝায় আত্মা বা প্রাণশক্তি। আল-কুরআন ইসলামি চিন্তাচেতনা, জীবনদর্শন ও আদর্শের রুহ বা প্রাণ স্বরূপ, তাই আল্লাহ। তাআলা আল-কুরআনকে আর-রুহ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন : এভাবে আমার আমর থেকে রুহকে আমি আপনার প্রতি ওহি করেছি।- [সুরা শূরা : ৫২]

(১২) আল-খায়র : আল-খায়র হলো কল্যাণ বা মঙ্গল। আল্লাহ তাআলা আল কুরআনকে খায়র নামে অভিহিত করেছেন। কেননা কুরআন মাজিদ পৃথিবীর সব মানুষের জন্য বিশ্বজনীন কল্যাণ ও চিরায়ত মঙ্গলের প্রতীক। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের মধ্যে এমন একটা দল থাকা উচিত যারা আল-খায়রের দিকে আহ্বান করবে। [সুরা আলে ইমরান : ১০৪]

(১৩) আল-আজব : আল-আজব হলো বিস্ময়কর বিষয়, তুলনাহীন প্রসঙ্গ। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-আজব বলে অভিহিত করেছেন। কারণ আলকুরআনের বক্তব্য, বিধান, বিষয়, উপস্থাপনা সবকিছুই বিপুল বিস্ময়কর। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তারা বলে, নিশ্চয় আমরা আজব কুরআন শ্রবণ করেছি। (সুরা জিন : ১]

(১৪) আল-বায়ান : আল-বায়ান অর্থ হলো বর্ণনা, বিবরণ, ব্যাখ্যা। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-বায়ান নামে অভিহিত করেছেন। কারণ কুরআন হলো সব বিষয়ে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা, আবশ্যিক বিবরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা এ মহাগ্রন্থে আল্লাহ তাআলা সব প্রয়োজনীয় বিধান ও প্রাসঙ্গিক তত্ত্ব সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, এটা মানুষের জন্য বায়ান। [সুরা আলে ইমরান : ১৩৮]।

(১৫) আন-নিআমত : আন-নিআমত হলো দান ও অনুগ্রহ। আল্লাহ তাআলা আল কুরআনকে আন-নিআমত নামে অভিহিত করেছেন। কেননা তার পক্ষ থেকেই মানুষের জন্য আল-কুরআন হলো অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিআমত। বিশ্বমানবকে এ নিআমত দিয়ে আল্লাহ তাআলা বিপুলভাবে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, তোমার রবের নিআমতের কথা প্রচার কর। [সুরা দুহা : ১১]

(১৬) আল-বুরহান : আল-বুরহান অর্থ সুস্পষ্ট দলিল, স্পষ্ট যুক্তি-প্রমাণ, সংশয়হীন সাক্ষ্য। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-বুরহান নামে অভিহিত করেছেন। কেননা আল্লাহ তাআলার তাওহীদ, হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাত এবং ইসলামের সত্যতা এবং অন্য সবকিছুর অসারতার পক্ষে কুরআন হলো স্পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে মানুষ! তোমাদের রবের কাছ থেকে তোমাদের কাছে বুরহান বা সুস্পষ্ট প্রমাণ এসেছে। [সুরা নিসা : ১৭৪]

(১৭) আল-মুহাইমিন : আল-মুহাইমিন অর্থ সংরক্ষক বা অভিভাবক। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-মুহাইমিন নামে অভিহিত করেছেন। কেননা আল-কুরআন ইসলামি হুকুম-আহকাম ও জীবন দর্শনের সংরক্ষক এবং অভিভাবক। আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করেছি এর আগে অবতীর্ণ। কিতাবের সমর্থক ও সংরক্ষক রূপে। [সুরা মায়িদা : ৪৮]

(১৮) আন-নূর : আন-নূর অর্থ জ্যোতি বা আলো। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আন-নূর নামে অভিহিত করেছেন। কারণ অসংখ্য গুমরাহ পথের অন্ধকারে সঠিক পথে চলার জন্য আল-কুরআন হলো আল্লাহ প্রদত্ত জ্যোতি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা তাঁর সঙ্গে যে নূর বা জ্যোতি নাযিল হয়েছে তার অনুসরণ করে তারাই সফলকাম। (সুরা আরাফ : ১৫৭]

(১৯) আল-হক : আল-হক অর্থ সত্য, অভ্রান্ত, অবিসংবাদিত। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-হক নামে অভিহিত করেছেন। কারণ এ মহাগ্রন্থের সব বিষয় ও বক্তব্য এক পরম সত্যের প্রকাশ। আল্লাহ বলেন- বল, আল-হক এসেছে এবং মিথ্যা অপসারিত হয়েছে। (সুরা বনী ইসরাঈল : ৮১)।

(২০) আল-হাকিম : আল-কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অবিস্মরণীয় জ্ঞানগর্ভ প্রজ্ঞাপূর্ণ ও বিজ্ঞানময় কিতাব। এ কারণে আল্লাহ তাআলা একে আল-হাকিম নামে অভিহিত করেছেন। যেমন- তিনি বলেছেন, আল-হাকীম আল-কুরআনের শপথ। [সুরা ইয়াসীন : ২)।

(২১) আল-মাজিদ : আল-মাজিদ অর্থ মহিমান্বিত, মহাসম্মানিত। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-মাজিদ নামে অভিহিত করেছেন। কারণ এ মহাগ্রন্থ নাযিল হয়েছে মহিমান্বিত ও মহাসম্মানিত রবের পক্ষ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, বরং এটা মহাসম্মানিত কুরআন। [সুরা বুরূজ : ২১]

(২২) আল-কায়্যিম : আল-কুরআনের একটি অন্যতম নাম আল-কায়্যিম। এর অর্থ মজবুত, সুদৃঢ় ও প্রতিষ্ঠাকারক। কারণ কুরআন মাজিদ সব সুদৃঢ় বক্তব্য। উপস্থাপক এবং সঠিক জীবনদর্শন প্রতিষ্ঠাতা।

(২৩) হাবলুল্লাহ : হাবলুল্লাহ অর্থ আল্লাহর রজ্জ্ব বা তার পথ। আল্লাহ তাআলা আল কুরআনকে হাবলুল্লাহ নামে অভিহিত করেছেন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পথ। আর কুরআন মাজিদ আল্লাহর পথই নির্দেশ করে থাকে। তাই এর এ রকম নামকরণ করা হয়েছে।

(২৪) আল-মুবীন : আল-মুবীন অর্থ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা প্রদানকারী বা ব্যাখ্যাতা। আল-কুরআন আল্লাহ তাআলার বিপুল সৃষ্টির উদ্দেশ্য এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে। কী উদ্দেশে আল্লাহ এ সৃষ্টিজগত গড়ে তুলেছেন তা এখান থেকেই জানা যায়। এ কারণে একে আল-মুবীন বলা হয়েছে।

(২৫) আল-মুবারক : আল-মুবারক হলো বরকতময় বা কল্যাণপূর্ণ। কুরআন মাজিদ মানুষের জন্য কল্যাণময় মহাগ্রন্থ। এর অনুসরণের মাধ্যমে মানুষ চিরকালীনকল্যাণ ও বরকত লাভ করতে পারে বলে এর নাম আল-মুবীন।

(২৬) আল-মুসাদ্দিক : আল-কুরআনের অনেক স্থানে আল-কুরআনকে আল-মুসাদ্দিক নামে অভিহিত করা হয়েছে। মুসাদ্দিক অর্থ সত্যায়নকারী। আল-কুরআন পূর্ববর্তী সব নবী ও রাসূলের শিক্ষা এবং কিতাবের সত্যায়ন করে।

(২৭) আল-আযীয: আল-আযীয অর্থ হলে পরাক্রমশালী, প্রভাবশালী, ক্ষমতাবান। আলাহ তাআলা আল-কুরআনকে আযীয নামে অভিহিত করেছেন, কারণ অতীতের সব কিতাবের উপর যেমন তেমনি পৃথিবীর সব বাতিল বক্তব্য ও অসার জ্ঞানের উপর আল-কুরআন পরাক্রমশালী, অমিত প্রভাবের অধিকারী।

(২৮) আল-বশীর : আল-বশীর অর্থ সুসংবাদদাতা বা শুভ খবর বাহক। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আল-বশীর নামে অভিহিত করেছেন। কারণ আলকুরআন মানুষকে আমলে সালেহের বিনিময়ে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেছে।

(২৯) আল-বুশরা : আল-কুরআন মানুষকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করে বলে একে আল-বুশরা বা সুসংবাদ নামে অভিহিত করা হয়।

(৩০) আন-নাযীর : আন-নাযীর অর্থ সতর্ককারী, সাবধানকারী। আল্লাহ তাআলা আল-কুরআনকে আন-নাযীর নামে অভিহিত করেছেন। কারণ কুরআন মাজিদ। মানুষকে কুফর, শিরক, নিফাক ও ফিসকের জন্য আখিরাতে ভয়ানক স্থায়ী শাস্তির ব্যাপারে সতর্ক করেছে, মানুষকে অনন্তকালীন আযাবে ও আল্লাহ তাআলার গযবে নিপতিত হওয়া থেকে সাবধান করেছে।

(৩১) আল-করীম : আল-করীম অর্থ মহান ও সম্মানিত। মহান ও সম্মানিত আল্লাহ তাআলার হিসেবে আল-কুরআনকে আল-করীম নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

(৩২) আল-মুকাররম : আল-কুরআনকে আল-মুকাররম বা মর্যাদাসম্পন্ন বলা হয়ে থাকে। কারণ এ মহাগ্রন্থ সব সম্মানের আধার আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত। তাঁর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত হওয়ায় তা নিজেও মর্যাদাসম্পন্ন হয়েছে।

(৩৩) আল-মুতাহহারা : আল-কুরআনের একটি নাম হলো আল-মুতাহহারা বা পবিত্র। কেননা এ মহাগ্রন্থ চিরপবিত্র। কোনো মানুষের পক্ষে না এর মধ্যে । কোনো কথা অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব, না এর ভেতর থেকে কোনো কথা বাদ দেয়ার সাধ্য কারো আছে।

(৩৪) আল-কালাম : আল-কুরআন আল্লাহ তাআলার একটি প্রসিদ্ধ নাম হলো। কালাম বা বাণী ও কথা। কারণ আল-কুরআনে কোনো ধরনের সংশয়-সন্দেহ। ছাড়া কেবল আল্লাহ তাআলার বাণী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

(৩৫) আল-কাওল : এর অর্থও বাণী। আল-কুরআন আল্লাহ তাআলার বাণী বলেই একে আল-কাওল বা কাওলল্লাহ বলা হয়।

(৩৬) আল-ইলম : আল-কুরআনের একটি বিশেষ নাম হলো আল-ইলম বা জ্ঞান। কারণ আল-কুরআন দুনিয়া ও আখিরাতবিষয়ক প্রয়োজনীয় জ্ঞানে অনন্য সমন্বয়।

(৩৭) আল-ফাসল : এর অর্থ পার্থক্যকারী। আল-কুরআন সত্য ও মিথ্যার, পার্থক্য নির্ণয় করে বলে একে আল-ফাসল বলা হয়।

(৩৮) আস-সিরাতুল মুস্তাকীম : আল-কুরআনের একটি অন্যতম নাম আস-সিরাত মুস্তাকীম বা সরল, সঠিক ও সুদৃঢ় পথ। কারণ আল-কুরআন দুনিয়া আখিরাতে সফলতা এবং কল্যাণ লাভের এক অনন্য সরল, সঠিক কিন্তু সদায় পথ প্রদর্শন করে।

(৩৯) আন-নাবাউল আযীম : এর অর্থ মহাসংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ। আল-কুরআন আখিরাতের সব মহাগুরুত্বপূর্ণ সংবাদ পরিবেশন করে বলে একে আন-নাবাউল আযীম বলা হয়।

(৪০) আহসানুল হাদীস : এর অর্থ সর্বোৎকৃষ্ট বাণী। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত সবচেয়ে উত্তম বাণী বলেই একে আহসানুল হাদীস বলা হয়।

(৪১) আল-উরওয়াতুল উসকা : উরওয়া বলা হয় গ্লাস বা অন্য কোনো পাত্রের ধারণ স্থানকে। আল-কুরআন প্রকৃত উদ্দেশে পৌঁছার সুদৃঢ় মাধ্যম বলে একে আল উরওয়াতুল উসকা বা সুদৃঢ় কুণ্ডলি বলা হয়।

(৪২) আল-মাসানী :  হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-কুরআনকে আল-মাসানী নামে অভিহিত করেছেন। এর অর্থ পুনরাবৃত্তি বা একই ঘটনা বা উপদেশ বারবার বর্ণনা করা। আল-কুরআনে অনেক উপদেশ ও ঘটনার পুনরাবৃত্তি রয়েছে বলে একে আল-মাসানী নামে অভিহিত করা হয়েছে।

(৪৩) আল-ওহী : এর অর্থ প্রত্যাদেশ। আল-কুরআনের সব কিছুই আল্লাহ রাব্বল আলামীনের পক্ষ থেকে ওহী বলে একে এই নামে অভিহিত করা হয়।

(৪৪) আল-মুতাশাবিহ : এর অর্থ সাদৃশ্যপূর্ণ। আল-কুরআনের বিধানসমূহ এবং এর আয়াতমালা ও অন্তর্নিহিত বক্তব্য সাদৃশ্যপূর্ণ বলে এর নাম আল-মুতাশাবিহ।

(৪৫) আল-আরাবী : আল-কুরআন আরবি ভাষায় নাযিলকৃত বলে একে আল আরাবী বলা হয়।

(৪৬) আল-বাসাইর : কুরআন মাজিদ বিপুল জ্ঞানের অনন্য ভাণ্ডার বলে একে আল বাসাইর বা জ্ঞান তথা জ্ঞানভাণ্ডার বলা হয়।

(৪৭) আল-আলীউ : আল-কুরআন মর্যাদায় উন্নত ও সুউচ্চ স্থানের অধিকারী বলে। একে আল-আলীউ বা উন্নত ও উচ্চ নামে আখ্যায়িত করা হয়।

(৪৮) আল-হাদী : আল-কুরআন মানব জাতিকে সত্য ও মুক্তির পথ প্রদর্শন করে। বলে এর নাম আল-হাদী বা পথপ্রদর্শক।

(৪৯) আত-তাযকিরা : আল-কুরআনে মানব জাতির জন্য কল্যাণকর উপদেশসমূহ সন্নিবেশিত হয়েছে বলে একে আত-তাযকিরা বা উপদেশ নামে অভিহিত করা হয়।

(৫o) আস-সিদক : আল-কুরআন বক্তব্যে, তথ্যে, ঘটনা বর্ণনায়, উপদেশে, সম্বোধনে, বিশ্লেষণে, শব্দ ও বাকরীতি বিনির্মাণে শতভাগ সত্য ও বাস্তব গ্ৰন্থ বলে একে আস-সিদক বা সত্য নামে অভিহিত করা হয়।

(৫১) আল-আদল : আল-কুরআনে সুবিচার ও ন্যায়বিচারের জয়গান ধ্বনিত হয়েছে এবং এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে বলে একে আল-আদল বা ন্যায় বলা হয়।

(৫২) আল-আমর : আল-কুরআন আল্লাহ তাআলার কাজ এবং তাঁর আদেশ বলে একে আল-আমর বা আদেশ ও কর্ম নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

(৫৩) আল-মুনাদী : আল-কুরআন মানুষকে সত্য, সুন্দর ও জান্নাতের পথে আহ্বান করে বলে একে আল-মুনাদী বা আহ্বানকারী বলা হয়।

(৫৪) আল-যাবুর : আল-কুরআনকে যাবুর নামেও অভিহিত করা হয়। কারণ যাবুর অর্থ হলো কিতাব আর আল-কুরআনও সন্দেহাতীতভাবে একটি কিতাব।

(৫৫) আল-বালাগ : আল-কুরআনের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ মানুষের কাছে পৌছানাে হয় বলে একে আল-বালাগ বা পৌছানাের মাধ্যম নামে অভিহিত করা হয়।

(৫৬) আল-কাসাস : আল-কুরআনে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্ববর্তী, তাঁর সমকালের এমনকি তার পরের অনেক ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে বলে আল কুরআনকে আল-কাসাস বা কাহিনী নামেও অভিহিত করা হয়।

(৫৭) আল-মাসহাফ : লাওহি মাহফুয বা সুরক্ষিত ফলকে আল-কুরআন সুরক্ষিত। কিন্তু পৃথিবীতে আল-কুরআন কাগজে লিখিত অবস্থায় সুরক্ষিত হয়েছে। এ কারণে আল-কুরআনকে আল-মাসহাফ বা লিখিত কাগজও বলা হয়।


বস্তুত আল-কুরআনে আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনযাপনের সব দিক ও বিভাগ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন, মানুষের জন্য আবশ্যক প্রয়োজনীয় সব হুকুম আহকাম প্রদান করেছেন, উপদেশ দিয়েছেন, ঘটনা বর্ণনা করেছেন, সুসংবাদ দিয়েছেন, সতর্ক করেছেন। এ কারণে কুরআন মাজীদের বিষয়বস্তু বিপুল এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ। কুরআন মাজীদের এসব বিষয়ের আলোকে আল-কুরআনকে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করার সুযোগ রয়েছে এবং বিষয়গত কারণে এসব নামই যথাযথ এবং সার্থক হিসেবে গণ্য হবে।

আশুরার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য